জাহিদুল হক বাবুঃ
ঝিনাইদহ পাগলাকানাই থেকে কোটচাঁদপুর ও বাজার গোপালপুর সরাসরি গ্রামবাংলা ও লেগুনা চলাচলের রুট পারমিটের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগের তীর মধুহাটির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাশীন দল কোটচাঁদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে। পাগলাকানাই গ্রামবাংলা স্ট্যান্ড থেকে বাজার গোপালপুর পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন আর সেই সকল যাত্রীদের জন্যে গ্রামবাংলা ও লেগুনা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। পাগলাকানাই থেকে কোটচাঁদপুর উপজেলার আঞ্চলিক সড়কে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত কিন্তু সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে এখান থেকে কোটচাঁদপুর যাবার কোনো সুব্যাবস্থা নেই, যাত্রীদের দুই তিনবার যানবাহন পাল্টাতে হয়। সর্বসাধারণ জনগণের প্রাণের দাবি পাগলাকানাই থেকে কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর পর্যন্ত গ্রামবাংলা ও লেগুনা সার্ভিসটি চালু হোক। আর যাত্রীদের নিরাপদে সঠিক গন্তব্যে পৌছে দেবার বিষয়টি চিন্তা করে পাগলাকানাই গ্রামবাংলা ও লেগুনা স্ট্যান্ডের কর্তৃপক্ষ পাগলাকানাই হতে কোটচাঁদপুর সার্ভিস চালু করেন। কিন্তু তার পরপরই শুরু হয় চাঁদাবাজি। গ্রামবাংলা স্ট্যান্ড থেকে তুহিন সহ বেশ কয়েক জন অভিযোগ করে বলেন কোটচাঁদপুর উপজেলা পৌর আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক ৫০,০০০/- টাকা নিয়েছেন ও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক লিমন দুই লক্ষ টাকা দাবি করেছেন, কোটচাঁদপুর উপজেলা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মামুন নিয়েছেন ২০,০০০/- টাকা। এছাড়াও বেশ কিছু নেতারা এসে টাকা না দিলে গড়ি চালাতে দিবে না বলে, কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করেন, তাদের অনেককেই টাকা দেওয়া হলেও প্রতিনিয়তই চাঁদার টাকার জন্যে ভীতি দেখিয়ে গাড়ি বন্ধ করে দিচ্ছে। গ্রামবাংলার স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজি বিষয়ে কোটচাঁদপুর পৌর আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক রিপনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ঝিনাইদহের ওরা এসেছিল কোটচাঁদপুরে, আমাকে বলেছিল এই রোডে গাড়ি চালানো কোনোভাবে কিছু করা যায় কিনা! এছাড়া টাকা পয়সার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, একটা পক্ষ আমার রাজনৈতিক সুনাম নষ্ট করার জন্যে সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ দিচ্ছেন। এদিকে বাজার গোপালপুর সড়কে টাকা না দিলে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছেন মধুহাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জুয়েলের নির্দেশে টিটো নামের একজন। জিয়া নগর বাজার থেকে লেগুনা চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করে এবং মোটা অংকের টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে গ্রামবাংলা ও লেগুনাস্ট্যান্ড বন্ধ করে দেওয়া সহ নানাভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করে। এরকম ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশে তিন হাজার টাকা ও টিটো নামের এক ব্যক্তির মাধ্যম দিয়ে রুট পারমিটের অনুমতি সাপেক্ষে ৩৫ হাজার টাকায় রফাদফা হয়। কিন্তু টাকা দেবার পরও প্রায়ই টাকার জন্যে চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। এই সকল অভিযোগের বিষয়ে মধুহাটি ইউনিয়ন এর সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জুয়েল এর সাথে কথা হলে তিনি জানান,আমি রুট পারমিট দেবার কেউ না, তারা আমার কাছে এসেছিল তাদের উপকার করার চেষ্টা করেছি, তাছাড়া আমি কারোর কাছে কখনো কোনো টাকা পয়সা চাইনি, আর আমাকে কেউ টাকা পয়সা দেয়নি। এদিকে সর্বসাধারণ জনগণ ও গ্রামবাংলার ড্রাইভারগণ সকলেই চাইছেন ঝিনাইদহ থেকে কোটচাঁদপুর ও বাজার গোপালপুর নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে চলাচলের সুবিধার্থে লেগুনা ও গ্রামবাংলা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হোক। তাহলে কয়েক হাজার জনগণের চলাচলের সুবিধা হবে।